ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিলারদের সার যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে – বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তার মুখে কৃষক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা ঃ-
গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায়
ডিলারদের সার যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে ফলে বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তায় রয়েছে কৃষক।
সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নে আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও গাইবান্ধায় কিছু অসাধু ডিলারদের কারসাজিতে সরকারি দামের চেয়ে চড়া দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে।
রবি ও বোরো মৌসুমে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মাসে রাসায়নিক সারের ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়। যার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র। কৃষি অফিসারের মনিটরিং না থাকায় মাঠ পর্যায়ে সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।গত ২৭ ফেব্রুয়ারি /২৬ ইং ট্রাক বোঝাই ২শ’ বস্তা ইউরিয়া সার পাচারের দায়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম বাবু সার গুলি জব্দ করে ট্রাক ড্রাইভারের ২০ হাজার জরিমান অনাদায়ে ৩ মাস কারাদন্ডাদেশের আদেশ দেন। অন্যদিকে
গাইবান্ধা জেলা শহরস্থ সবুর এন্ড ব্রাদার্স ‘অধিক মুনাফালোভী’ ডিলার গোপনে সার মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় বিশ বস্তা সার পাচার কালে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও অন‍্য জনের ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। কৃষকদের দাবী তারা সাত থেকে দশ দিন ডিলারের ঘরে গিয়েও সার না পেয়ে বাইরে অসাধু খুচরা ব‍্যবসায়ীদের থেকে ১৩৫০ টাকার সার ২১০০ টাকায় চড়া দামে ক্রয় করেন। টিএসপি। এসব অসাধু ডিলাররা কৃষকদের বরাদ্দকৃত সার ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে গোপনে পাঁচার করে আসছেন।
দীর্ঘদিন থেকে ফুলছড়ি উপজেলার ডিলার মোঃ রেজাউল হাজী উড়িয়া ইউনিয়নের কাটাতারা চরে খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট ১৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০ বস্তা জীব সার। অন‍্যদিকে একই উপজেলার মিজান এন্ড ব্রদার্স এর প্রপাইটর মোঃ মিজানুর রহমান উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতারা চরের সবুজ ও মনির এর কাছে ২০বস্তা ইউরিয়া সার ১০ বস্তা টিএসপি সার বিক্রি করেন। এছাড়াও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী ১০বস্তা ইউরিয়া পদুমশহর ইউনিয়নের মিয়ার বাজারে খুশির মিয়ার দোকানে বিক্রি করেন। একের পর এক এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার পাচার হলে আসন্ন বোরো ও রবি মৌসুমে ব্যাপক সার সংকট হবে বলে আশংকা করেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
অতীতেও এই চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিকভাবে মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকের বোরো ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। কৃষকদের চড়া দামের সিন্ডিকেট থেকে বাঁচাতে প্রশাসনিক নজরদারি ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট নির্মূল এবং মাঠ পর্যায়ে সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে উপ-পরিচালক,কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর,গাইবান্ধা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
সর্বাধিক পঠিত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চন্ডিপুরে সরক নির্মাণে নিম্নমানের খোঁয়া ব‍্যবহারের অভিযোগ

ডিলারদের সার যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে – বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তার মুখে কৃষক

আপডেট সময় ০৮:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা ঃ-
গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায়
ডিলারদের সার যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে ফলে বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তায় রয়েছে কৃষক।
সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নে আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও গাইবান্ধায় কিছু অসাধু ডিলারদের কারসাজিতে সরকারি দামের চেয়ে চড়া দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে।
রবি ও বোরো মৌসুমে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মাসে রাসায়নিক সারের ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়। যার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র। কৃষি অফিসারের মনিটরিং না থাকায় মাঠ পর্যায়ে সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।গত ২৭ ফেব্রুয়ারি /২৬ ইং ট্রাক বোঝাই ২শ’ বস্তা ইউরিয়া সার পাচারের দায়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম বাবু সার গুলি জব্দ করে ট্রাক ড্রাইভারের ২০ হাজার জরিমান অনাদায়ে ৩ মাস কারাদন্ডাদেশের আদেশ দেন। অন্যদিকে
গাইবান্ধা জেলা শহরস্থ সবুর এন্ড ব্রাদার্স ‘অধিক মুনাফালোভী’ ডিলার গোপনে সার মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় বিশ বস্তা সার পাচার কালে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও অন‍্য জনের ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। কৃষকদের দাবী তারা সাত থেকে দশ দিন ডিলারের ঘরে গিয়েও সার না পেয়ে বাইরে অসাধু খুচরা ব‍্যবসায়ীদের থেকে ১৩৫০ টাকার সার ২১০০ টাকায় চড়া দামে ক্রয় করেন। টিএসপি। এসব অসাধু ডিলাররা কৃষকদের বরাদ্দকৃত সার ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে গোপনে পাঁচার করে আসছেন।
দীর্ঘদিন থেকে ফুলছড়ি উপজেলার ডিলার মোঃ রেজাউল হাজী উড়িয়া ইউনিয়নের কাটাতারা চরে খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট ১৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০ বস্তা জীব সার। অন‍্যদিকে একই উপজেলার মিজান এন্ড ব্রদার্স এর প্রপাইটর মোঃ মিজানুর রহমান উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতারা চরের সবুজ ও মনির এর কাছে ২০বস্তা ইউরিয়া সার ১০ বস্তা টিএসপি সার বিক্রি করেন। এছাড়াও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী ১০বস্তা ইউরিয়া পদুমশহর ইউনিয়নের মিয়ার বাজারে খুশির মিয়ার দোকানে বিক্রি করেন। একের পর এক এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার পাচার হলে আসন্ন বোরো ও রবি মৌসুমে ব্যাপক সার সংকট হবে বলে আশংকা করেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
অতীতেও এই চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিকভাবে মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকের বোরো ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। কৃষকদের চড়া দামের সিন্ডিকেট থেকে বাঁচাতে প্রশাসনিক নজরদারি ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট নির্মূল এবং মাঠ পর্যায়ে সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে উপ-পরিচালক,কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর,গাইবান্ধা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/krishanmajhee/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481