ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোয়ালী বালক উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন একটি বিদ্যালয়

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ-
বাংলাদেশে এমন দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপীঠ কমই আছে। যেখানে রয়েছে প্রকৃতির কাছ থেকে বিদ্যা লাভ করার সুযোগ। যেখানে ব্যতিক্রম পরিবেশে শিক্ষাদান করা হয়। ব্যতিক্রম সেই বিদ্যাপিঠের নাম ‘বোয়ালী বালক উচ্চ বিদ্যালয়”।যা গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়।অসাধারণ স্থাপনায় নির্মিত এই বিদ্যালয় ভবনের চারপাশ খোলামেলা। শ্রেণিকক্ষসহ বিদ্যালয়ের সবকিছুই রঙিন প্রচ্ছদে ঢাকা। ছেলে-মেয়েদের জন্য আছে একাধিক আলাদা আলাদা ওয়াশরুম। খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা সরঞ্জাম।
বিদ্যালয়ের চারদিকে সবুজের সমারোহ। বাতাসে গাছের পাতা দোলে। দেখে মনে শিহরণ জাগে। যেতে যেতে রাস্তার দুই পাশের গাছ-গাছালি আর পাখির কলতানে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া যেন হৃদয় কেড়ে নেয়। গাইবান্ধা শহর থেকে ৩/৪ কিঃমিঃ গ্রামের পথে কারুকার্য অঙ্কিত একটি মনেরম গেট,গেটের সামনে দাড়িয়ে আছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান। দৃষ্টিনন্দন একটি বিদ্যাপীঠ। যেখানে সূর্যের আলোয় বিদ্যাপিঠটি আলোতে ঝলমল করছে।
প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের বিদ্যালয়টি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। মনের আনন্দে লেখাপড়া করছে।
অসাধারণ, সাদামাটা একটি গ্রাম। যেখানে সকাল থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খেটে খাওয়া মানুষের। মা-মাটির গন্ধ যেখানে মিশে আছে। সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা। ভোরে আলো ফোটার পর যেখানে পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে তারা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে এতটাই আধুনিকতার পরশ রয়েছে যে, এক নজর দেখতে-ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বদিয়ার জামানসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তাদেরকে স্বাগতম জানান। এ সময় তিনি অথিতিদ্বয়কে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার উপকরন, দেয়াল লিখন,মনোমুগ্ধকর গেট,শহীদের প্রতিকৃতি, কবি-সাহিত্যিকদের ছবি, মাটিতে ফুলের গাছ দিয়ে বানানো ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত ঘুরে ঘুরে দেখান।
বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা বলেন- পরীক্ষার পর স্কুল ছেড়ে চলে যাব। স্কুলের জন্য ভালো কিছু একটা করে যেতে পারলে নিজেরও ভালো লাগবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ সকল শিক্ষকরা জানান, অভাব-অনটনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে খুব একটা হাজির হতো না। আমরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে উদ্যোগ নিলাম, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগীতা ও পরামর্শে এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা ডাকা হলে তাদের উৎসাহে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩/৪ শ’ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বিদ্যালয়টি দিন দিন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, এলাকাবাসী সম্পৃক্ত হচ্ছে। আশাকরি বিদ্যালয়টি এক দিন জাতীয় পর্যায়ে উন্নত হবে। উন্মোচন হবে নয়া দিগন্তের।

ট্যাগস :
সর্বাধিক পঠিত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চন্ডিপুরে সরক নির্মাণে নিম্নমানের খোঁয়া ব‍্যবহারের অভিযোগ

বোয়ালী বালক উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন একটি বিদ্যালয়

আপডেট সময় ০১:১৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ-
বাংলাদেশে এমন দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপীঠ কমই আছে। যেখানে রয়েছে প্রকৃতির কাছ থেকে বিদ্যা লাভ করার সুযোগ। যেখানে ব্যতিক্রম পরিবেশে শিক্ষাদান করা হয়। ব্যতিক্রম সেই বিদ্যাপিঠের নাম ‘বোয়ালী বালক উচ্চ বিদ্যালয়”।যা গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়।অসাধারণ স্থাপনায় নির্মিত এই বিদ্যালয় ভবনের চারপাশ খোলামেলা। শ্রেণিকক্ষসহ বিদ্যালয়ের সবকিছুই রঙিন প্রচ্ছদে ঢাকা। ছেলে-মেয়েদের জন্য আছে একাধিক আলাদা আলাদা ওয়াশরুম। খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা সরঞ্জাম।
বিদ্যালয়ের চারদিকে সবুজের সমারোহ। বাতাসে গাছের পাতা দোলে। দেখে মনে শিহরণ জাগে। যেতে যেতে রাস্তার দুই পাশের গাছ-গাছালি আর পাখির কলতানে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া যেন হৃদয় কেড়ে নেয়। গাইবান্ধা শহর থেকে ৩/৪ কিঃমিঃ গ্রামের পথে কারুকার্য অঙ্কিত একটি মনেরম গেট,গেটের সামনে দাড়িয়ে আছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান। দৃষ্টিনন্দন একটি বিদ্যাপীঠ। যেখানে সূর্যের আলোয় বিদ্যাপিঠটি আলোতে ঝলমল করছে।
প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের বিদ্যালয়টি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। মনের আনন্দে লেখাপড়া করছে।
অসাধারণ, সাদামাটা একটি গ্রাম। যেখানে সকাল থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খেটে খাওয়া মানুষের। মা-মাটির গন্ধ যেখানে মিশে আছে। সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা। ভোরে আলো ফোটার পর যেখানে পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে তারা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে এতটাই আধুনিকতার পরশ রয়েছে যে, এক নজর দেখতে-ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বদিয়ার জামানসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তাদেরকে স্বাগতম জানান। এ সময় তিনি অথিতিদ্বয়কে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার উপকরন, দেয়াল লিখন,মনোমুগ্ধকর গেট,শহীদের প্রতিকৃতি, কবি-সাহিত্যিকদের ছবি, মাটিতে ফুলের গাছ দিয়ে বানানো ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত ঘুরে ঘুরে দেখান।
বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা বলেন- পরীক্ষার পর স্কুল ছেড়ে চলে যাব। স্কুলের জন্য ভালো কিছু একটা করে যেতে পারলে নিজেরও ভালো লাগবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ সকল শিক্ষকরা জানান, অভাব-অনটনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে খুব একটা হাজির হতো না। আমরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে উদ্যোগ নিলাম, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগীতা ও পরামর্শে এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা ডাকা হলে তাদের উৎসাহে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩/৪ শ’ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বিদ্যালয়টি দিন দিন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, এলাকাবাসী সম্পৃক্ত হচ্ছে। আশাকরি বিদ্যালয়টি এক দিন জাতীয় পর্যায়ে উন্নত হবে। উন্মোচন হবে নয়া দিগন্তের।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/krishanmajhee/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481