ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ২ বছর পর অনুমোদন পেল শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি, মালিকদের মাঝে স্বস্তি।

  • সবুজ আহাম্মেদ
  • আপডেট সময় ০৭:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি | শেরপুর

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অনুমোদন পেয়েছে শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নতুন ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে আলহাজ্ব মো. হযরত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলহাজ্ব মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পাওয়ায় জেলার পরিবহন মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা অনুমোদনপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় গঠিত কমিটির আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সাংগঠনিক বিষয়াদি পর্যালোচনা শেষে আগামী দুই বছরের জন্য কমিটিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনটি ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শ্রী গৌতম কুমার সাহা। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী বাবু মধুসূদন গুপ্ত, শ্রী সুজিত কুমার ঘোষ, জনাব ওয়ায়েস জাহান নিতুন এবং আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পাশাপাশি সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সেকান্দার আলী, বজলুর রহমান বাবু ও মো. আতাহারুল ইসলাম। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন পারভেজ আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ শ্রী রণজিৎ সিং রায়, দপ্তর সম্পাদক সুমন তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মো. একরামুল হক ডালিম এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোখফেজুল হোসেন মিল্টু।

নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব মো. হযরত আলী বলেন,“আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করতে চাই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো, ঋণগ্রস্ত বাস মালিকদের সুদের বোঝা কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা এবং শেরপুরের পরিবহন খাতকে একটি আদর্শ ও মডেল খাতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন,
“দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রম অনেকটাই বিশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে। সঠিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল। এখন কমিটি অনুমোদিত হওয়ায় মালিকদের ঐক্যবদ্ধ করে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

কার্যকরী সভাপতি শ্রী গৌতম কুমার সাহা বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কমিটির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এজন্য আমরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।”

পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক মালিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কমিটি না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে সেই অচলাবস্থা কাটবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নতুন নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তাদের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবগঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি আরও সুসংগঠিত হবে। মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সেবার মানোন্নয়ন এবং জেলার পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :

দীর্ঘ ২ বছর পর অনুমোদন পেল শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি, মালিকদের মাঝে স্বস্তি।

দীর্ঘ ২ বছর পর অনুমোদন পেল শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি, মালিকদের মাঝে স্বস্তি।

আপডেট সময় ০৭:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি | শেরপুর

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অনুমোদন পেয়েছে শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নতুন ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে আলহাজ্ব মো. হযরত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলহাজ্ব মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পাওয়ায় জেলার পরিবহন মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা অনুমোদনপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় গঠিত কমিটির আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সাংগঠনিক বিষয়াদি পর্যালোচনা শেষে আগামী দুই বছরের জন্য কমিটিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনটি ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শ্রী গৌতম কুমার সাহা। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী বাবু মধুসূদন গুপ্ত, শ্রী সুজিত কুমার ঘোষ, জনাব ওয়ায়েস জাহান নিতুন এবং আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পাশাপাশি সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সেকান্দার আলী, বজলুর রহমান বাবু ও মো. আতাহারুল ইসলাম। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন পারভেজ আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ শ্রী রণজিৎ সিং রায়, দপ্তর সম্পাদক সুমন তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মো. একরামুল হক ডালিম এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোখফেজুল হোসেন মিল্টু।

নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব মো. হযরত আলী বলেন,“আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করতে চাই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো, ঋণগ্রস্ত বাস মালিকদের সুদের বোঝা কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা এবং শেরপুরের পরিবহন খাতকে একটি আদর্শ ও মডেল খাতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন,
“দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রম অনেকটাই বিশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে। সঠিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল। এখন কমিটি অনুমোদিত হওয়ায় মালিকদের ঐক্যবদ্ধ করে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

কার্যকরী সভাপতি শ্রী গৌতম কুমার সাহা বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কমিটির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এজন্য আমরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।”

পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক মালিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কমিটি না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে সেই অচলাবস্থা কাটবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নতুন নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তাদের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবগঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে শেরপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি আরও সুসংগঠিত হবে। মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সেবার মানোন্নয়ন এবং জেলার পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।