নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ-
পবিত্র রমজান মাস এলেই আত্মশুদ্ধি আর সহমর্মিতার এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে গাইবান্ধায়। শহরের ভাসমান, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের জন্য পুরো মাসজুড়ে ইফতার ও রাতের খাবারের এক মানবিক আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)’। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষের মুখে ফুটছে তৃপ্তির হাসি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় প্রথম রোজার বিকেল থেকেই শুরু হয় এক অন্যরকম কর্মযজ্ঞ। বিশাল সব হাঁড়িতে চলে রান্নাবান্না। স্বেচ্ছাসেবকদের চোখেমুখে থাকে তৃপ্তির ক্লান্তি। তাদের একটাই উদ্দেশ্য-সমাজের ভাসমান, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের মুখে একটু ভালো ও পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া।
এই আয়োজনের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দিক হলো সাম্য ও সম্প্রীতি। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল মানুষদের সাথে একই কাতারে বসে ইফতার করেন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তৈরি হয় অভাবনীয় এক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। সারাদিন রোজা রাখার পর, প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু একসাথে বসে পরম তৃপ্তিতে খাবার গ্রহণ করেন, যা যে কারও হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ইফতার করতে আসা বোয়ালী গ্রামের বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম জানান, “কয়েক বছর ধরেই গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে ইফতার ও রাতের খাবার পেটভরে তৃপ্তিসহকারে খাচ্ছি।” বানিয়ারজান এলাকার মজিরন বেগম বলেন, “রোজার মাসজুড়ে আমাদের খাবারের নিশ্চয়তা করে দিয়েছে জিইউকে।” জহুরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি জানান, “আমি ভিক্ষাবৃত্তি করে খাই। রোজার মাসে এত সুন্দর পরিবেশে এবং সম্মানের সাথে সকলের সাথে বসে খাবার খেতে পেরে নিজেকে খুব সম্মানিত বোধ করছি।”
২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগটি এবার অষ্টম বছরে পদার্পণ করেছে। এ বিষয়ে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর পরিচালক আবু সায়েম মোহাম্মদ জান্নাতুন নূর বলেন, “শহরের ভাসমান ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন রমজান মাসে অন্তত এক বেলা পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সাল থেকে আমরা এই সেবা দিয়ে আসছি। এছাড়া এসব অসহায় মানুষকে আমরা ঈদ উপহার সামগ্রীও দিয়ে থাকি। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সবসময়ই অব্যাহত থাকবে।”
সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর মহতী এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এমন মানবিক উদ্যোগ সবখানে ছড়িয়ে পড়ুক-এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
নিজস্ব সংবাদ : 






















