ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগন্জের হরিপুরে জিও ব্যাগ ফেলার নামে তিস্তায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং -নিশ্চুপ প্রশাসন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ-

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজারের পাশে “পারা সাদুয়া, হাজিপাড়া গ্রামে
বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার নামে তিস্তায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং, ভাঙ্গন আতঙ্কে এলাকাবাসী।তিস্তা নদীতে প্রকাশ্যে এমন ড্রেজিং চললেও একপ্রকার নিশ্চুপ রয়েছে প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে ভাঙ্গন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নাম করে দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিংয়ের ৫০ গজের মধ্যেই চলছে অবৈধ ড্রেজিং। প্রকাশ্যে এমন ঘটনা চলছে উক্ত ইউনিয়নের তিস্তা নদীর “পারা সাদুয়া হাজিপাড়া এলাকায়। এমন ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না গাইবান্ধা পানী উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সুন্দরগন্জ উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।


অভিযোগ রয়েছে অবৈধ ড্রেজিং এর সাথে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় প্রশাসনকে কোন প্রকার পাত্তা না দিয়েই চালানো হচ্ছে ড্রেজিং, প্রতিদিন বালু বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উক্ত এলাকায় ড্রেজারের মাধ্যমে নদী কাটিং করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায়।আর এর সাথে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা ও শাহজামালসহ পানী উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তা /কর্মচারী।
জানা গেছে, উক্ত এলাকা তিস্তার ভাঙ্গন রোদে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ইতিপুর্বেও ফেলানো হলেও তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে আবারও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তবে পুর্বের ন্যায় এবারও নানা অনিয়ম- দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জিও ব্যাগের ভিতরে যে বালু দেয়া হচ্ছে এসব বালু দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব নয়। কারণ জিও ব্যাগে মোটা বালু দেয়ার কথা থাকলেও অবৈধভাবে ড্রেজিং করে নদীর চিকন বালি যা পাউডার বালু নামে পরিচিত তা দিয়ে চলছে জিও ব্যাগ ভর্তি করে ভাঙ্গন রোধে ডাম্পিং কাজ। অনুমোদন ছাড়াই চলছে এমন অবৈধ ড্রেজিং।

স্থানীয়রা জানান, জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর নাম করে অবৈধভাবে কোনরূপ অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজিং চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এছাড়াও ড্রেজিংয়ে জড়িত ড্রেজারটিরও নেই অনুমোদন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না। ফলে তাদের ইচ্ছা মতো লোডিং ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে চক্রটি। এতে করে অদুর ভবিষ্যৎতে তিস্তার তীরবর্তি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিবে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী। হুমকিতে পড়বে শত শত একর কৃষি জমি ও বসত বাড়ি। অনতিবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ না করতে পারলে জিও ব্যাগ ফেলে কোন কাজেই আসবে না বরং এই বর্ষায় ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
এ ব্যাপারে পানী উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত উপ-সহকারী (এসও) মোঃ সাদেকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- ড্রেজার লোডিং করে নদী কাটিং করা যাবে,তবে বালু যে কেউ নিতে পারবে। অন্যদিকে -সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ইফফাত জাহান তুলি বলেন,বিষয়টি সরেজমিনে দেখে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :
সর্বাধিক পঠিত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চন্ডিপুরে সরক নির্মাণে নিম্নমানের খোঁয়া ব‍্যবহারের অভিযোগ

সুন্দরগন্জের হরিপুরে জিও ব্যাগ ফেলার নামে তিস্তায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং -নিশ্চুপ প্রশাসন

আপডেট সময় ১২:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

নুরুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ-

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজারের পাশে “পারা সাদুয়া, হাজিপাড়া গ্রামে
বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার নামে তিস্তায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং, ভাঙ্গন আতঙ্কে এলাকাবাসী।তিস্তা নদীতে প্রকাশ্যে এমন ড্রেজিং চললেও একপ্রকার নিশ্চুপ রয়েছে প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে ভাঙ্গন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নাম করে দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিংয়ের ৫০ গজের মধ্যেই চলছে অবৈধ ড্রেজিং। প্রকাশ্যে এমন ঘটনা চলছে উক্ত ইউনিয়নের তিস্তা নদীর “পারা সাদুয়া হাজিপাড়া এলাকায়। এমন ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না গাইবান্ধা পানী উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সুন্দরগন্জ উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।


অভিযোগ রয়েছে অবৈধ ড্রেজিং এর সাথে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় প্রশাসনকে কোন প্রকার পাত্তা না দিয়েই চালানো হচ্ছে ড্রেজিং, প্রতিদিন বালু বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উক্ত এলাকায় ড্রেজারের মাধ্যমে নদী কাটিং করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায়।আর এর সাথে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা ও শাহজামালসহ পানী উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তা /কর্মচারী।
জানা গেছে, উক্ত এলাকা তিস্তার ভাঙ্গন রোদে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ইতিপুর্বেও ফেলানো হলেও তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে আবারও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তবে পুর্বের ন্যায় এবারও নানা অনিয়ম- দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জিও ব্যাগের ভিতরে যে বালু দেয়া হচ্ছে এসব বালু দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব নয়। কারণ জিও ব্যাগে মোটা বালু দেয়ার কথা থাকলেও অবৈধভাবে ড্রেজিং করে নদীর চিকন বালি যা পাউডার বালু নামে পরিচিত তা দিয়ে চলছে জিও ব্যাগ ভর্তি করে ভাঙ্গন রোধে ডাম্পিং কাজ। অনুমোদন ছাড়াই চলছে এমন অবৈধ ড্রেজিং।

স্থানীয়রা জানান, জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর নাম করে অবৈধভাবে কোনরূপ অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজিং চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এছাড়াও ড্রেজিংয়ে জড়িত ড্রেজারটিরও নেই অনুমোদন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না। ফলে তাদের ইচ্ছা মতো লোডিং ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে চক্রটি। এতে করে অদুর ভবিষ্যৎতে তিস্তার তীরবর্তি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিবে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী। হুমকিতে পড়বে শত শত একর কৃষি জমি ও বসত বাড়ি। অনতিবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ না করতে পারলে জিও ব্যাগ ফেলে কোন কাজেই আসবে না বরং এই বর্ষায় ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
এ ব্যাপারে পানী উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত উপ-সহকারী (এসও) মোঃ সাদেকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- ড্রেজার লোডিং করে নদী কাটিং করা যাবে,তবে বালু যে কেউ নিতে পারবে। অন্যদিকে -সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ইফফাত জাহান তুলি বলেন,বিষয়টি সরেজমিনে দেখে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।