ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে আর্থিক সহায়তার প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারন, পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারন করার অভিযোগে উঠেছে দেলোয়ার হোসেন দেলু(৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দেলোয়ার হোসেন দেলু ও তাঁর সহযোগী সিএনজি চালক মোরশেদ মোল্লা(৩৫)কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে মামলা করেন। আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের সিরুন্দি গ্রামের রাউতের বাড়ির মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে ও রামগঞ্জ পাট বাজারের এরশাদ হোসের রোডের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী ও অপর আসামী মোরশেদ মোল্লা একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির আবুল কালামের ছেলে পেশায় সিএনজি চালক। মামলার বাদী গৃহবধূ একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত সফিক মোল্লার স্ত্রী। সোমবার (২মার্চ) আদালতের নির্দেশে রামগঞ্জ থানা নিয়মিত মামলা রেকর্ডভূক্ত করেন। মামলা নং-১,তারিখ-০২.০৩,০২৬ইং।
মামলার বিবরন সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম হওয়ায় আর্থিক অনটনে পড়েন ঐ গৃহবধূ। দেলোয়ার হোসেন দেলু বিগত ৭/৫/২০২৫ইং গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তার জন্য তার রামগঞ্জ শহরস্থ কলাবাগান লন্ডন ম্যানসন ২য় তলার ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন। ওই দিন দুপুর ১২টায় গৃহবধূ মামলার ২ নং আসামীর চালিত সিএনজি যোগে দেলোয়ার হোসেন দেলুর বাসায় যান। এ সময় দেলোয়ার হোসেন দেলু খালি বাসায় জোর পূর্বক গৃহবধূর শরীরের বস্ত্র খুলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে, এভাবে সে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো একাধিকবার গৃহবধুকে ধর্ষণ করে। এবং ২ নং আসামীর মোবাইলে উক্ত ভিডিও শেয়ার করে দেয়। পরবর্তিতে ২নং আসামী উক্ত ভিডিও গৃহবধূর আত্নীয়- স্বজন ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী ধমকী দিয়ে ধর্ষণের প্রস্তাব এবং ২ লাখ টাকা দাবী করে। গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে বিগত ২২ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তিতে গৃহবধূ বাদী হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ইং লক্ষ্মীপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০( সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারা সহ পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২এর ৮(১)(২)/(৩)(৪) ধারায় মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রামগঞ্জ থানাকে নিয়মিত মামলা রেকর্ডভূক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
গৃহবধূ জানান, আমি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদকে বহু কাকুতি মিনতি করে বলেছি, ছবি ও ভিডিও ডিলেট করে ফেলার জন্য। কিন্তু তারা এ ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে, এবং আমার উপর বার বার শারিরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন করে। শেষে,আমি নিরুপায় হয়ে মামলা করেছি।
আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদ মোল্লা পলাতক থাকায় তাদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদালতের নির্দেশক্রমে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং ১,তারিখ-২-৩.২০২৬ইং । মামলা তদন্ত সাপেক্ষে আইনুনাগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় গরু জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবি।

লক্ষ্মীপুরে আর্থিক সহায়তার প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারন, পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের

আপডেট সময় ০৯:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারন করার অভিযোগে উঠেছে দেলোয়ার হোসেন দেলু(৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দেলোয়ার হোসেন দেলু ও তাঁর সহযোগী সিএনজি চালক মোরশেদ মোল্লা(৩৫)কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে মামলা করেন। আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের সিরুন্দি গ্রামের রাউতের বাড়ির মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে ও রামগঞ্জ পাট বাজারের এরশাদ হোসের রোডের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী ও অপর আসামী মোরশেদ মোল্লা একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির আবুল কালামের ছেলে পেশায় সিএনজি চালক। মামলার বাদী গৃহবধূ একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত সফিক মোল্লার স্ত্রী। সোমবার (২মার্চ) আদালতের নির্দেশে রামগঞ্জ থানা নিয়মিত মামলা রেকর্ডভূক্ত করেন। মামলা নং-১,তারিখ-০২.০৩,০২৬ইং।
মামলার বিবরন সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম হওয়ায় আর্থিক অনটনে পড়েন ঐ গৃহবধূ। দেলোয়ার হোসেন দেলু বিগত ৭/৫/২০২৫ইং গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তার জন্য তার রামগঞ্জ শহরস্থ কলাবাগান লন্ডন ম্যানসন ২য় তলার ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন। ওই দিন দুপুর ১২টায় গৃহবধূ মামলার ২ নং আসামীর চালিত সিএনজি যোগে দেলোয়ার হোসেন দেলুর বাসায় যান। এ সময় দেলোয়ার হোসেন দেলু খালি বাসায় জোর পূর্বক গৃহবধূর শরীরের বস্ত্র খুলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে, এভাবে সে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো একাধিকবার গৃহবধুকে ধর্ষণ করে। এবং ২ নং আসামীর মোবাইলে উক্ত ভিডিও শেয়ার করে দেয়। পরবর্তিতে ২নং আসামী উক্ত ভিডিও গৃহবধূর আত্নীয়- স্বজন ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী ধমকী দিয়ে ধর্ষণের প্রস্তাব এবং ২ লাখ টাকা দাবী করে। গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে বিগত ২২ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তিতে গৃহবধূ বাদী হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ইং লক্ষ্মীপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০( সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারা সহ পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২এর ৮(১)(২)/(৩)(৪) ধারায় মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রামগঞ্জ থানাকে নিয়মিত মামলা রেকর্ডভূক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
গৃহবধূ জানান, আমি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদকে বহু কাকুতি মিনতি করে বলেছি, ছবি ও ভিডিও ডিলেট করে ফেলার জন্য। কিন্তু তারা এ ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে, এবং আমার উপর বার বার শারিরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন করে। শেষে,আমি নিরুপায় হয়ে মামলা করেছি।
আসামী দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদ মোল্লা পলাতক থাকায় তাদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদালতের নির্দেশক্রমে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং ১,তারিখ-২-৩.২০২৬ইং । মামলা তদন্ত সাপেক্ষে আইনুনাগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।