শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা দক্ষিণ
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। মাইকিং, মিছিল আর সভা-সমাবেশে মুখরিত থাকা দোহার-নবাবগঞ্জের রাজপথ এখন শান্ত। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় এখন কেবল ক্ষণগণনা ১২ ফেব্রুয়ারির। তবে মাঠের প্রচারণা থামলেও ভোটারদের মনে এখন চলছে চুলচেরা রাজনৈতিক সমীকরণ।
ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে এবার মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: ১. খন্দকার আবু আশফাক (ধানের শীষ – বিএনপি) ২. ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা – জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দল জোট) ৩. অন্তরা হুদা (হরিণ – স্বতন্ত্র) ৪. মাওলানা নুরুল ইসলাম (হাতপাখা – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ৫. শেখ মো. আলী (আনারস – লেবার পার্টি) ৬. মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা (লাঙ্গল – জাতীয় পার্টি)
মাঠের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তরা হুদা, ইসলামী আন্দোলন, লেবার পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব একটা চোখে না পড়লেও মূল আলোচনা এখন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লাকে ঘিরে।
প্রচারণার শেষ লগ্নে গত সোমবার বড় দুই শক্তি প্রদর্শনের সাক্ষী হয়েছে ঢাকা-১ আসন। নবাবগঞ্জ কলেজ মাঠে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বিশাল জনসভা করেছেন। অন্যদিকে, জয়পাড়া বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভা করেছেন ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই দুই জনসভার গভীরতায় কিছু কৌশলগত ভিন্নতা দেখছেন। ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আমীরের এই সশরীরে উপস্থিতি এবং আবেগঘন বক্তব্য জোট ও দলীয় ভোটের বাইরেও সাধারণ ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খন্দকার আবু আশফাক কেন্দ্রীয় কোনো নেতার উপস্থিতি ছাড়াই তার বিশাল জনসভার মাধ্যমে নিজের শক্তির জানান দিয়েছেন। উল্লেখ্য, খন্দকার আবু আশফাক কেবল ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নন, বরং তিনি দোহার-নবাবগঞ্জের রাজনীতির দুই কিংবদন্তি প্রয়াত সংসদ সদস্য ও সাবেক বিমান মন্ত্রী আব্দুল মান্নান এবং সাবেক খাদ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার অত্যন্ত স্নেহভাজন ও আস্থাভাজন ছিলেন। বর্ষীয়ান এই দুই নেতার আদর্শিক সান্নিধ্য তাকে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “তৃণমূলের মানুষ আমার সাথে আছে। ভোট সুষ্ঠু হলে বিজয় ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত।”
বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদা। তার বাবা সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত ইমেজ ও বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অনেক পুরনো ভোটার নাজমুল হুদার প্রতি আবেগের কারণে তার কন্যাকে ভোট দিলে, সেই ভোট মূলত ধানের শীষের পক্ষ থেকেই কমবে। এই ফ্যাক্টরটি বিএনপির জয়ের পথে অন্যতম বাধা বা ‘গলার কাঁটা’ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পর এখন ভোটারদের মুখে মুখে কেবল কার পাল্লা ভারি তা নিয়ে আলোচনা। দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা চান একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবই বলে দেবে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা এবং কে হবেন এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের আগামীর কাণ্ডারি।
নিজস্ব সংবাদ : 

















