নিজস্ব প্রতিবেদক | শেরপুর
প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার।।
শেরপুর শহরের বাগরাকসা এলাকায় এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর স্বামীর সঙ্গে জেসমিন জাহান দিপ্তি নামে এক ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও একসঙ্গে বসবাসের (লিভ-ইন) অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাগরাকসা এলাকার একটি রোগীর বাসার সামনে রাস্তায় অভিযুক্ত নারী ও ওই ব্যক্তিকে একসঙ্গে দেখা যায়। এ সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী নারী, কয়েকজন স্থানীয় নারী এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের কাছে গভীর রাতে একসঙ্গে অবস্থানের কারণ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চান।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তারা বিষয়টি শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে অবহিত করেন এবং ভিডিও ফুটেজও প্রদর্শন করেন। তবে তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত না করে তিন দিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা এটিকে হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও, অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ঠেকাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন সংশ্লিষ্ট আরেকটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা প্রকৃত ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক। মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।”
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী নারী বলেন,
“আমার স্বামীর সঙ্গে ওই মহিলার দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে আমি জানতে পারি। তারা আলাদা একটি বাসায়ও থাকেন বলে শুনেছি। ঘটনার রাতে তাদের একসঙ্গে দেখে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে জানাইলে আমি তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাই এবং এত রাতে একসঙ্গে থাকার কারণ জানতে চাই। কিন্তু তারা কোনো উত্তর না দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান।”
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির অভিযোগ থাকলেও সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রশাসন সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুক।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত জেসমিন জাহান দিপ্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব সংবাদ : 















